ফেব্রুয়ারী ২০২৬ এর গণভোট অত্যন্ত অনিশ্চিত অবস্থা তৈরী করেছে এবং এ আয়োজনের পেছনে রয়েছে জুলাই সনদ ও ১৯৭১-এর মহতী জনযুদ্ধ থেকে জাত বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্র বিরোধী গোষ্ঠীসমূহের আগামী পরিকল্পনা। রাষ্ট্রের কাঠামো বদলানো, রাজনৈতিক ব্যবস্থার মৌলিক দিক নির্ধারণ করা বা দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নেওয়া সাধারণত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ম্যান্ডেটের মধ্যে পড়ে না। গণভোটের মাধ্যমে এ জাতীয় বড় ধরণের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার একচ্ছত্র অধিকার নিতে যাচ্ছে জামায়াত ও তার নিয়োগপ্রাপ্ত মুহাম্মদ ইউনুস। এ ধরণের পদক্ষেপ গৃহীত হবে সাংবিধানিক সীমা অতিক্রম করে। বিশ্বের উদাহরণ থেকে বলা যায়, এ ধরণের আয়োজন সরকারের ও রাষ্ট্রের জন্য এক বা একাধিক ঝুঁকি তৈরি করে—বিশেষ করে যখন সংসদ অনুপস্থিত বা দূর্বল থাকে (বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ৭ ও ১১)। ঠিক এই সীমাটিই অতিক্রম করেছে মুহাম্মদ ইউনুস ও তার পাপেট সরকার। গণভোটে হাঁ দেয়ার অর্থ সাংবিধানিক সীমা অতিক্রমে তার অনৈতিক ও বেআইনী পদক্ষেপগুলোকে দায়মুক্তি দেয়ার সুযোগ। তা এক কূ-দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। এ সরকারকে এসব পদক্ষেপগ্রহণে ছাড় দেয়ার মানে, এরপর যে কেউ তার একক সিদ্ধান্তে সংবিধান, রাষ্ট্র ও দেশ নিয়ে ’যা খুশী, তাই’ করতে পারবে। রাষ্ট্রবিরোধী চক্র দেশের সার্বভৌমত্ব বিলিয়ে দিতে পারবে, গণতান্ত্রিক দেশের সংবিধান ধ্বংসের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র-কাঠামোর মৌলিক চরিত্র সম্পূর্ণ পরিবর্তন করতে সক্ষম হবে। বাংলাদেশ কি এ ঝুঁকি নিতে চায়?  

বাংলাদেশ পর্ব এক. বাংলাদেশে এখন “গণভোট” শব্দটি শুনতে কারু কারু কাছে আকর্ষণীয় বোধ হতে পারে। দীর্ঘ রাজনৈতিক অচলাবস্থা, চরম অবিশ্বাস, মাসের পর মাস ক্রমাবনতির দিকে যেতে থাকা অর্থনৈতিক অচলাবস্থা এবং কষ্ট-ক্লান্তির মধ্যে গণভোটকে কেউ কেউ হয়তো এক ধরণের শর্টকাট সমাধান হিসেবে দেখছেন। কিন্তু এ ভাবনাটি ভুল। এই মুহূর্তে গণভোট সমস্যার সমাধান নয়, সমস্যাকে আরো জটিল ও ঘণীভূত করার পায়তাড়া। এ কথা গণ্য—গণভোট গণতান্ত্রিক পদ্ধতি। কিন্তু সব গণতান্ত্রিক পদ্ধতি সব পরিস্থিতিতে কার্যকর হয় না। ইতিহাস বলছে, বিভক্ত সমাজে, দুর্বল প্রতিষ্ঠানে, আর অনির্বাচিত শাসনের অধীনে গণভোট প্রায়ই নতুন সংকট তৈরি করে (IDEA, 2022)। বাংলাদেশে ফেব্রুয়ারীতে যে “গণভোট“ সংঘটনের তোড়জোড় চলছে, তা ভালো না খারাপ সে বিতর্কে না গিয়েও বলা যায় দেশের বিরাজমান বাস্তবতায় গণভোট একটি Worst case Scenario. গণভোটের প্রয়োজনীয়তা ও গণভোটের কার্যকারিতা, যে বিষয়েই কথা বলুন না কেন, প্রেক্ষাপটই সবকিছু নির্ধারণ করে। দুই. কীভাবে এটি Worst case Scenario? পাঁচটি দিক থেকে বিচার করা যায় যে আগামী গণভোট গোটা দুনিয়ার গণভোটের ইতিহাস বিচারে একটি মন্দতম পদক্ষেপ। শুরু করা যাক এই মৌলিক প্রশ্ন

দিয়ে—কে গণভোট আয়োজন করছে , কোন ক্ষমতাবলে এবং জনগণের সাথে তার কি সম্পর্ক? গণভোট আয়োজন করছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। অন্তর্বর্তী সরকার এক ধরণের ট্রানজিশনাল বা ক্ষমতার পালাবদলকালের সহায়ক সরকার। এ সরকারের মূল দায়িত্ব হচ্ছে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা, ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখা এবং রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার জন্য এমন একটি পরিবেশ তৈরী করা যেখানে সব দল অংশগ্রহণ করে নির্বাচন সুসম্পন্ন করতে পারে। অন্য কথায়, এ সরকার মাঠ তৈরী করবে, সব খেলোয়াড়ের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে, সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং নিরপেক্ষ থাকবে। রাষ্ট্রের কাঠামো বদলানো, রাজনৈতিক ব্যবস্থার মৌলিক দিক নির্ধারণ করা বা দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ম্যান্ডেটের মধ্যে পড়ে না। গণভোটের মাধ্যমে বড় ধরণের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে সেটি সাংবিধানিক সীমা অতিক্রম করে। এটা সরকারের ও রাষ্ট্রের জন্য এক বা একাধিক ঝুঁকি তৈরি করে—বিশেষ করে যখন সংসদ অনুপস্থিত বা দূর্বল থাকে (বাংলাদেশের সংবিধান, অনুচ্ছেদ ৭ ও ১১)। ঠিক এই সীমাটিই অতিক্রম করেছেন মুহাম্মদ ইউনুস ও তার পাপেট সরকার। গণভোটে হাঁ দেয়ার অর্থ সাংবিধানিক সীমা অতিক্রমে তার অনৈতিক ও বেআইনী পদক্ষেপগুলোকে দায়মুক্তি দেয়া।…

আগের সংকটগুলো ক্ষমতা বদলের লড়াই ছিল; ২০২৪ হলো রাষ্ট্র, ইতিহাস ও নাগরিক স্মৃতিকে নতুন করে লেখার চেষ্টা। বাংলাদেশের ইতিহাসে বহুবার সরকার বদলেছে, আন্দোলন হয়েছে, ক্ষমতার ভারসাম্য পাল্টেছে। কিন্তু ২০২৪ সাল সেই তালিকায় আরেকটি সংখ্যা নয়। এটি এমন এক সময়, যখন রাষ্ট্র শুধু শাসক বদলাতে নয়—নিজের স্মৃতি, আইন এবং নাগরিক পরিচয় বদলে পিচিয়ে যেতে উদ্যত হয়েছে। এই মুহূর্তে প্রশ্নটি আর কে ক্ষমতায় থাকবে, তা নয়; প্রশ্নটি হলো— ১৯৭১ এ জনযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা তিরিশ লাখ শহীদের ত্যাগের মাধ্যমে অর্জন করেছি বাংলাদেশ। এ অর্জন ধর্মের কলকাঠি দিয়ে কোটি কোটি মানুষের জীবন পর্যুদস্ত করার ১৯৪৭ এর অপ-প্রয়াসের বিরুদ্ধে, দ্বিজাতি-তত্ত্বের মাধ্যমে মানুষকে ধর্মে ভাগ করে নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে, সমানাধিকারের পথে, সাম্যের পথে, শান্তি ও সমৃদ্ধির পথে বাংলার জনপদকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার, এবং বিশ্ব দরবারে মহতী জাতিরূপে স্থান করে দেয়ার কর্মযজ্ঞের পক্ষে। তাই প্রশ্ন কোন্ ধরণের রাষ্ট্র টিকে থাকবে? মুক্তিযুদ্ধের চৈতন্যবাহী জনগণের ও তাদের নেতৃত্বের ঐক্য এই প্রশ্নের সমাধানের কেন্দ্রবিন্দু।

বাংলাদেশে জোট রাজনীতির সূচনা স্বাধীনতার পরপরই, ১৯৭২ সালে। তবে স্বাধীনতার প্রথম দশকে গঠিত রাজনৈতিক জোটগুলো রাষ্ট্রক্ষমতা কিংবা রাজনৈতিক সংস্কৃতি গঠনে তেমন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি। জোট রাজনীতির বাস্তব ও কার্যকর রূপ স্পষ্টভাবে দেখা যায় মূলতঃ জেনারেল এরশাদের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গণ-আন্দোলনের সময় থেকে। ১৯৮৮ সালের পর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ৮-দলীয় জোট, বিএনপির নেতৃত্বে ৭-দলীয় জোট, বাম দলগুলোর নেতৃত্বে ৫-দলীয় জোট এবং জামায়াতে ইসলামী আলাদাভাবে আন্দোলনকে বেগবান করে তোলে। একই সময়ে ছাত্রসমাজ ২২-দলীয় ঐক্যজোট গঠন করে আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করে। এই সম্মিলিত আন্দোলনের চাপে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর জেনারেল এরশাদ পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। এরপর বিএনপি ক্ষমতায় এলেও গণ-আন্দোলনের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক ঐক্যমত্যের রূপরেখা বাস্তবায়নে তারা আগ্রহ দেখায়নি। বরং কয়েকটি উপ-নির্বাচন সরকারি ছত্রছায়ায় এতটাই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে ওঠে যে ১৯৯৪ সালের মাগুরা উপনির্বাচনে তৎকালীন প্রধান নির্বাচন কমিশনার জীবন রক্ষার্থে এলাকা ত্যাগে বাধ্য হন। এর পরিণতিতে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে প্রায় সব রাজনৈতিক দল আবারও আন্দোলনে নামে। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বিএনপি সরকারের একতরফা ও প্রহসনমূলক নির্বাচনের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে

‘জনতার মঞ্চ’ ব্যানারে তীব্র গণ-আন্দোলন গড়ে ওঠে। জাতীয় পার্টি ‘গণতন্ত্র মঞ্চ’ এবং জামায়াতে ইসলামী ‘কেয়ারটেকার মঞ্চ’ গঠন করে এই আন্দোলনে যুক্ত হয়। শেষ পর্যন্ত দেড় মাসের মাথায় নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয় এবং ১৯৯৬ সালের ৩০ মার্চ বিএনপি সরকার পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে সরকারের শেষের দিকে ১৯৯৯ সালে বিএনপির নেতৃত্বে চার দলীয় জোট গঠিত হয় ( বিএনপি , জাতীয় পার্টি , জামায়াতে ইসলামী , এবং ইসলামী ঐক্যজোট )। তবে কিছুদিনের মধ্যে এরশাদের জাতীয় পার্টি চার দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে গেলে নাজিউর রহমানের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টির একটা অংশ চার দলীয় জোটে থেকে যায় । ঐ সময় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বা বাম দলগুলোর নেতৃত্বে তেমন কার্যকরি কোন জোট না থাকার পরিপ্রেক্ষিতে ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট ক্ষমতায় এসে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালায় এবং একই সঙ্গে স্বাধীনতাবিরোধী জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটে। পরিণতিতে রাষ্ট্র ও সমাজ এক গভীর সংকটের দিকে ধাবিত হতে শুরু করে। এই বাস্তবতার প্রেক্ষাপটেই মুক্তিযুদ্ধ, অসাম্প্রদায়িকতা…

সাধারণ জনগণের বিশেষ করে তরুণ সমাজের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের ইশতেহারে যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করে। সেই নির্বাচনে ভূমিধস বিজয়ের পর মহাজোট সরকার শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকার্য সম্পন্ন করে Į যাদের অধিকাংশই ছিলেন জামায়েতে ইসলামীর শীর্ষস্থানীয় নেতা এবং চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী। অন্য দলেরও দুএকজন ছিলেন। সেই থেকে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার প্রতি তাদের আক্রোশ নতুন করে শুরু হল। তাদের ধারণা শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী না হলে অন্য কেউ এ ধরনের বিচার করার সাহস পেত না। কথাটা একবারে অমূলক নয়। কারণ ফাসির রায় কার্যকর না করার জন্য খোদ আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুরোধ উপেক্ষা করে প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা রায় কার্যকর করায় অবিচল ছিলেন। এ জন্য বঙ্গবন্ধু কন্যার প্রতি জামাত সমর্থিত বর্তমান সরকারের ও আইসিটি কুশীলবদের আক্রোশের মাত্রাটা সবচেয়ে বেশি। ২০২৪ নিয়েও নানা বিতর্ক। যে মৃত্যু সংখ্যাকে ঘিরে এই বিচারের প্রহসন সেটিও তো ক্রমে অসত্য হিসেবে উদঘাটিত হলো। কিন্তু আইসিটি সেই মিথ্যে তথ্যেরে ওপর ভিত্তি করেই রায় প্রদান করলো।

এক.বাংলাদেশে ড: মোহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ।আর যেভাবে আন্তর্জাতিক ট্রাইবুনাল গঠিত হয়েছে তার কোন বৈধতাই নেই। সুতরাং রায় কি হল তা নিয়ে আলোচনা অনর্থক। তবুও প্রশ্ন, কেন এত তড়িঘড়ি করে কোন নিয়মকানুনের তোয়াক্কা না করেই এ ভাবে ফাসির রায় ঘোষণা করা হল? যারা এই রায় ঘোষণা করেছেন তারাও জানেন নিয়মকানুন মেনে এই রায় ঘোষণা করা হয় নাই। তবে কেন? এর অন্যতম প্রধান কারণ—প্রতিহিংসা, আক্রোশ এবং জিঘাংসা। কিসের এই জিঘাংসা? সেটা জানতে আলোচনাটা শুরু করতে হবে একটু পিছন থেকেই।নব্বই দশক থেকেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ব্যাপারটি বেশ জোরেশোরেই আলোচনায় আসতে থাকে, বিশেষ করে তরুণ সমাজের মধ্যে।উল্লেখ্য যে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে জামায়েতে ইসলামী, নেজামে ইসলামী, মুসলিম লীগ এবং পাকিস্তান ডেমোক্রেটিক পার্টি(পিডিপি) সরাসরি পাকিস্তানের সামরিক জান্তাকে সমর্থন এবং সহযোগিতা করে। জামায়েতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র সংঘ (বর্তমান নাম ইসলামী ছাত্র শিবির) ক্যাডার ভিত্তিক আলবদর বাহিনী গঠন করে পাকিস্তানী জান্তার সাথে সরাসরি যুদ্ধের সময় হত্যা ও নির্যাতনে জড়িত ছিল। রাজাকার বাহিনী গঠন করেছিলেন জামায়েতে ইসলামী নেতা মৌলানা একেএম ইউসুফ যিনি

যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামী (আপিল শুনানি চলছিল) হয়েও কিছুদিন আগে বেকসুর খালাস পেয়ে জেল থেকে মুক্তি পান।এমতাবস্থায় নিজ দলের এবং সাধারণ জনগণের বিশেষ করে তরুণ সমাজের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের ইশতেহারে যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করে। সেই নির্বাচনে ভূমিধস বিজয়ের পর মহাজোট সরকার শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকার্য সম্পন্ন করে Į যাদের অধিকাংশই ছিলেন জামায়েতে ইসলামীর শীর্ষস্থানীয় নেতা এবং চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী। অন্য দলেরও দুএকজন ছিলেন। সেই থেকে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার প্রতি তাদের আক্রোশ নতুন করে শুরু হল। তাদের ধারণা শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী না হলে অন্য কেউ এ ধরনের বিচার করার সাহস পেত না। কথাটা একবারে অমূলক নয়। কারণ ফাসির রায় কার্যকর না করার জন্য খোদ আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুরোধ উপেক্ষা করে প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা রায় কার্যকর করায় অবিচল ছিলেন। এ জন্য বঙ্গবন্ধু কন্যার প্রতি আক্রোশের মাত্রাটা সবচেয়ে বেশি। এছাড়াও বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা অসাম্প্রদায়িক চেতনার একজন অন্যতম অগ্রদূত এবং মহান মুক্তিযুদ্ধকে ধারণ ও লালন করার বিশ্বস্ত প্রহরী। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তার দৃঢ়তা ও দেশপ্রেম প্রশ্নাতীত। তদুপরি…

নতুন কাল সমাগত। উন্নয়ন ও ইসলাম : এই কালের ফসল ঘরে উঠে গেছে। নতুন কালে নতুন দিনের যদি জন্ম না হয়, যদি উন্নয়নসাম্য ও সংস্কৃতিসভ্যতা আমাদের সৃষ্টিশীল রাজনৈতিক পরিসরে প্রবিষ্ট না হয় - তাহলে বাংলাদেশের বর্তমান সংকট আরো উৎকট সংকটেই পর্যবসিত হবে।

দূর থেকে বাংলাদেশকে দেখতে গিয়ে, ২০০৯ এর শুরু থেকে ২০২৪ এর অর্ধাংশ পর্যন্ত, দুটি শব্দে যখন এক সিংহলি বন্ধুকে – যেবন্ধুটির ব্যবসায়িক সূত্রে বছরের নয় মাসই কাটত বাংলাদেশে – সেই বাংলাদেশকে উপস্থাপন করতে বললাম, কলকাতায় বসে সে আমাকে বলল : উন্নয়ন ও ইসলাম। আমি কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে বসেছিলাম, কারণ ঠিক এই দুটি শব্দই আমি অন্য এক সূত্রে ২০১৯ সালের শেষে কলকাতায় আমার ঘনিষ্ঠ এক অত্যন্ত প্রভাবশালী সাংবাদিকের মুখে শুনেছিলাম, তিনি আমাকে বলেছিলেন – কলকাতায় সেবার ইডেনে গোলাপী টেস্ট উদ্বোধনে শেখ হাসিনা এসেছিলেন এবং তাদের মধ্যে কথাবার্তার এক পর্যায়ে – শেখ হাসিনা নাকি বলেছিলেন উন্নয়ন ও ইসলাম নিয়ে বাংলাদেশে তার সরকার কখনোই কোনো আপোস করবেন না। এখন এই উন্নয়ন ও ইসলাম পাশাপাশি আমি আরো অনেকের কাছে বিগত বছরগুলোতে আরো অনেক বার শুনেছি এবং আমিও এটা ধরে নিয়েছি বাংলাদেশে ২০১৯ এর শুরু থেকে ২০২৪ এর অর্ধাংশ পর্যন্ত শেখ হাসিনার শাসনে উন্নয়ন ও ইসলাম উচ্চকিত হয়েছে। স্বীকার করতে দ্বিধা নেই এতে আমি কোনো অর্থেই উন্নয়ন ও ইসলাম নিয়ে কোনো ধরনের বিরূপ ধারণার প্রতি

আকৃষ্ট হইনি এবং শেখ হাসিনার শাসনের মূলমন্ত্র যদি উন্নয়ন ও ইসলাম হয়ে থাকে তাতেও আমি কোনো সমস্যা না দেখে বরং এই দুই মূলমন্ত্র ধরে তিনি বাংলাদেশকে যে উচ্চতায় নিয়ে গেছেন সেটাতেই আমি সতত উদগ্রীব থেকেছি। কিন্তু যেটা আমার বলার কথা, আজ এখানে, তা হল এই উন্নয়ন ও ইসলাম এখন যেভাবেই হোক তার শাসনকাল অতিক্রম করেছে, তবুও এখনো আমরা দেখতে পাচ্ছি – বাংলাদেশকে ভবিষ্যতে যারা শাসন করতে আসতে পারে এবং বাংলাদেশকে এখন যারা শাসন করছে, তারাও একই ভাবে না হলেও অন্য ভাবে এই উন্নয়ন ও ইসলামকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার পক্ষপাতেই মশগুল আছে। আমাকে বলতেই হবে, তারা ভুল করছে, এবং শুধু তাই নয় – আজ কোনো যাদুবলে শেখ হাসিনাও যদি বাংলাদেশকে শাসন করতে শুরু করে, তাহলে তার জন্যও এটা চরম ভুল হবে আবার তার পুরনো মন্ত্র উন্নয়ন ও ইসলামে তার ক্ষমতাচক্রকে সাজিয়ে তোলা। অর্থাৎ, আমি এটাই বলতে চাইছি উন্নয়ন ও ইসলামের কাল শেষ হয়ে গেছে, নতুন কাল সমাগত, তাই আমরা যেই হই না কেন, আমরা যদি পুরোনো কালের উন্নয়ন ও ইসলামকে আঁকড়ে…

২০২০ সালের ৫ অক্টোবর, জামায়াতের আমীর একটি আভ্যন্তরীন সাংগঠনিক পত্রের মাধ্যমে জামায়াতের কর্মীদের যৌন আকাংখা নিয়ন্ত্রন এবং ধর্ষণ বা বলাতকারের মত অপরাধগুলোকে সাংগঠনিকভাবে মিমাংসা করার নির্দেশনা প্রদান করেন। জামায়াত আমীর কেন এই চিঠি দিলেন? এই ধরণের চিঠি কি তিনি দিতে পারেন? এই প্রসংগেই আলোচনা করছেন জাহানারা নূরী।

মাদ্রাসা শিক্ষকদের ছবি যারা তাদের ছাত্র - ছাত্রীদের যৌন নিপীড়ন করেছে

বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামী দলে যোগদানকারী একজন ইসলামী বোনের অন্যতম প্রধান ভূমিকা হতে পারে তার সহযোগী পুরুষ সদস্যদের—যাদের মুমিন ভাই বলা হয়—"যৌন কষ্ট" দূরীকরণে সহায়তা।   হ্যাঁ, আপনি ভুল পড়েননি।  গত কয়েক দশক ধরে, ফাটল দিয়ে গল্পগুলো বেরিয়ে এসেছে—শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বন্ধুদের মধ্যে ফিসফিস করে বলা কথা, নিকাব এবং হিজাবের আড়াল থেকে টুকটাক শব্দ ফাঁস হয়েছে। একটু একটু করে। সে সব থেকে স্পষ্ট উন্মোচিত হয় এ সত্য: জামায়াতে ইসলাম তার বাইরের সদগুণের মুখোশ এবং আমীরের মিষ্টি হাসির তলায় অন্যান্য অভ্যাস লুকিয়ে রেখেছে।    একটি চিঠি নীরবে উচ্চারিত অংশটি উন্মোচিত করছে এই বাস্তবতা—পবিত্র ওয়াজের আড়ালে, ইসলামী রাষ্ট্র কায়েমের আন্দোরনের ওয়াসিলায় জামায়াতের নারী শাখা ইসলামী ছাত্রী সংস্থায় যোগদানকারী নারীদের জন্য এক ধরণের যৌন দাসত্বের ভূমিকা রয়েছে।  ১. প্রকাশিত তথ্য এবং অভ্যন্তরীণ চিঠি  মানবাধিকার কর্মীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে সংগঠনের সংস্কৃতি এবং নারীদের প্রতি আচরণ সম্পর্কিত ফাঁস হওয়া অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ নথি। অন্তত একটি যোগাযোগে এমন একটি সাংগঠনিক আচরণের ধরণ প্রকাশ পেয়েছে যা শৃঙ্খলার ছদ্মবেশে লিঙ্গ-ভিত্তিক যৌন নির্যাতনকে বৈধতা দেয়।    ৫ অক্টোবর, ২০২০ তারিখে জামায়াতের আমীর ড. শফিকুর রহমানের

স্বাক্ষরিত একটি গোপনীয় চিঠি, দলের নারী এবং পুরুষ শাখার মধ্যে প্রচারিত হয়েছিল বলে প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যায়। এই অভ্যন্তরীণ চিঠি থেকে জানা গেছে যে, এই চিঠির মাধ্যমে জামায়াতারে আমীর সারা দেশে ধর্মীয় ভাইদের দ্বারা সংঘটিত ধর্ষণ এবং বলাৎকার জাতীয় নির্যাতনের ঘটনাগুলো স্বীকার ও অভ্যন্তরীণ সমাধান প্রস্তাব করেছেন।  এই নির্দেশনা থেকে বোঝা যায় যে জামায়াতে ইসলামী দলটিতে নারীদের যৌন নির্যাতনকে নিন্দা বা আইনগতভাবে সমাধানের পরিবর্তে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে যৌনতা ব্যবস্থাপনা করা হয়। নৈতিক এবং আইনি দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এ ধরণের নির্দেশনা গুরুতর উদ্বেগের কারণ।   ২. নির্দেশনার ভাষা এবং প্রভাব বিশ্লেষণ   উল্লেখিত চিঠিটি নিবিড়ভাবে পাঠ করলে জানা যায় যে জামায়াতে ইসলামী তার সদস্যদের মধ্যে ধর্ষণ এবং বলাৎকারের মতো নির্যাতনের ঘটনাগুলো পরোক্ষভাবে স্বীকার করে ও এই অপরাধসমূহকে সমাধানের জন্য সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণকে অগ্রাধিকার দেয়। সদস্যদের যৌন আচরণকে বিচ্ছিন্ন অপকর্ম হিসেবে না দেখে, এটি অভ্যন্তরীণভাবে ব্যাবস্থাপনার বিষয়টিই দলটির প্রধান ব্যক্তিদের কাছে অগ্রগণ্য বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়। এই চিঠিতে এ জাতীয় অপরাধে আইনি জবাবদিহিতার কথা কোথাও উচ্চারিত হয় নি।   চিঠিতে "ধর্ষণ এবং বলাৎকারের পুণরাবৃত্তি" শব্দ চারটি বিশেষ ভাব প্রকাশক। বাক্যটি…

  • Sign up
Password Strength Very Weak
Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
We do not share your personal details with anyone.